কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অবৈধভাবে থাকছেন রাজনৈতিক নারীরা!
![]() |
| কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অবৈধভাবে থাকছেন রাজনৈতিক নারীরা! |
কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে অবৈধভাবে থাকছেন রাজনৈতিক নারীরা!
ঢাকা রিপোর্টার: রাজধানীর নীলক্ষেত কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে কর্মজীবী নারীদের নির্দিষ্ট সময় থাকার কথা থাকলেও রাজনৈতিক মদদপুষ্ট নারীরা থাকছেন বছরের পর বছর। নিয়মবহির্ভূতভাবেই তারা দীর্ঘ বছর ধরে এই হোস্টেলে রয়েছেন। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, রাতের আঁধারে সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনার।
নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মজীবী নারী এই হোস্টেলে সর্বোচ্চ চার বছর থাকার সুযোগ পান। কিন্তু বেশকিছু নারী এখানে থাকেন, যারা সাত থেকে দশ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের আবাসিক সুবিধা ভোগ করছেন। যা নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ।
হোস্টেলে অবৈধভাবে বসবাসকারী নারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক তদবির ও বিশেষ কোটায় আসন পেয়েছিলেন। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্টও রয়েছেন কয়েকজন। দীর্ঘমেয়াদি এই অবৈধ দখলের কারণে নতুন আবেদনকারী ও সাধারণ যোগ্য কর্মজীবী নারীরা বৈধভাবে সিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ এই বাসিন্দারা হোস্টেল প্রশাসনকে প্রভাবিত করে বছরের পর বছর সেখানে থাকছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও তারা বহাল তবিয়তে থেকে রাতে নিয়মিত সরকারবিরোধী পরিকল্পনা, গোপন বৈঠক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, হোস্টেল প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আইন ও সুস্পষ্ট নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন দীর্ঘকালীন অবৈধ বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাধারণ নারী বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোস্টেল প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা একটি অংশ এখনো আওয়ামী লীগের দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের কারণেই নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা বা সিট বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, হোস্টেলটিতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দীর্ঘমেয়াদে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে হোস্টেলকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা ব্যক্তিদের দ্রুত বহিষ্কার ও প্রশাসনের ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
ঢাকা রিপোর্টার/স্বাধীন
