ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি

ডাকসু সংগ্রহশালার জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে
ডাকসু সংগ্রহশালার জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে টাঙানো হলো গোলাম আযমকে জুতাপেটার ছবি


ঢাবি রিপোর্টার: গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন হওয়ার আগে সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের আলোকচিত্র ও নিদর্শনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল ছবি ছিল। কিন্তু গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করার পর সেই ছবিগুলোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সড়িয়ে পেলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি। সেখানে যুক্ত করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।

জিন্নাহর তিনটি ছবির মধ্যে একটি ১৯৪৮ সালে ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের। যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি, যেখানে জিন্নাহ রয়েছেন। অপরটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি–সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

রোববার সংগ্রহশালা চালুর অনুষ্ঠানে ছিলেন ডাকসু ভিপি ও শিবির নেতা সাদিক কায়েম ও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়ে জুমা বলেছিলেন, ‘সেখানে জিন্নাহর কোনো একক ছবি রাখা হয়নি। ১৯০৫ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি একক ফ্রেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

জিন্নাহর ছবি টানানোর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল সাধারণ ছাত্ররা। পাশাপাশি ছাত্রদলও এগুলোকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার লক্ষণ বলে অভিহিত করেছিল।

শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার
শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার

তবে আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডাকসুর সংগ্রহশালায় সাঁটানো মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। এদিন দুপুর ২টার দিকে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এরপর জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টাঙিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা।

আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ সেশনের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদে লড়েছিলেন তিনি। আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘কাউকে তার ইচ্ছামতো কিছু করতে দেওয়া হবে না। এই খলনায়কের ছবি কেন ডাকসুতে থাকবে? ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠার কোনো কথা ছিল কি না? একাত্তর ও ভাষা সংগ্রাম আমরা ভুলিনি।’

ডাকসুর সংগ্রহশালায় টাঙানো গোলাম আযমকে জুতা পেটা করার ছবি
ডাকসুর সংগ্রহশালায় টাঙানো গোলাম আযমকে জুতা পেটা করার ছবি


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আযমকে অপমানের যে ছবিটি টানিয়ে দেন, সেটি ১৯৮১ সালের বায়তুল মোকাররমে ধারণ করা। যেখানে দেখা যায় সাধারণ জনতা রাজাকার গোলাম আযমকে জুতাপেটা করছেন।

এ প্রসঙ্গে ছাত্র ফেডারেশন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘গতকাল ফাতিমা তাসনিম জুমা (ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক) বলেছিল, তার ইচ্ছা করেছে তাই জিন্নাহর ছবি লাগিয়েছে। ঠিক তেমনই আমাদের ইচ্ছা করেছে গোলাম আযমের ছবি লাগাতে, তাই লাগিয়েছি।’

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ‘পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে ঘোষণা করে জিন্নাহর দেওয়া যে বিবৃতি, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেটা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার অবস্থান তুলে ধরা। শিক্ষার্থীরা কেন এটা ভাঙল, সেটা আমি বুঝতে পারছি না। ইতিহাস গোপন করা মানে তা উন্মোচন করার পরিবর্তে জিন্নাহর পক্ষ নেওয়া।’

ঢাকা রিপোর্টার/ শিমুল
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url