মুরগির বিষ্ঠা লুট করলেন যুবদল নেতা
![]() |
| মুরগির বিষ্ঠা লুট করলেন যুবদল নেতা |
মুরগির বিষ্ঠা লুট করলেন যুবদল নেতা
চট্টগ্রাম রিপোর্টার: নিয়মিত চাদাবাজি ও লুটপাটের মধ্যে এবার মুরগির বিষ্ঠা লুট করলেন এক যুবদল নেতা। ঘটনাটি ঘটিয়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন। তিনি করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকায় সহযোগীদের নিয়ে এই ঘটনা ঘটান শাখাওয়াত। এর পরদিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে একটি খালি জায়গা থেকে তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার জোরারগঞ্জ পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মজল হক (৩০) ও মো. শাকিল (২৪)। তারা উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাবিলদারবাসা এলাকায় সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে ৪টি ট্রাকের গতিরোধ করেন শাখাওয়াত। ট্রাকগুলো থামলে চালকদের নামিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে নিয়ে ট্রাকে থাকা ১ হাজার ৬৮০ বস্তা মুরগির বিষ্ঠা নামিয়ে নেওয়া হয়।
ট্রাক চালকরা জানান, লুট হওয়া চার ট্রাকে ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) ছিলো। যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী রিপন হোসেন বলেন, উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকার নাহার অ্যাগ্রো ফিড লিমিটেডের প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এসব মুরগির বিষ্ঠা কিনেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোম্পানির শেড থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। এর অংশ হিসেবে ২১ সেপ্টেম্বর চারটি ট্রাকে করে জৈব সারগুলো ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
পথে ট্রাকগুলো হাবিলদারবাসা এলাকায় পৌঁছালে যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেনসহ একদল লোক সেগুলোর গতিরোধ করে চালকদের নামিয়ে দেয়। পরে চালকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ট্রাকগুলো মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায় নিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের মাধ্যমে জৈব সার নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে চালকদের মোটরসাইকেলে করে সেখানে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে ২২ সেপ্টেম্বর জোরারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়।
মামলায় নোয়াখালীর সুধারাম থানার জালিয়াল এলাকার আবির (২৮) ও কবির (৫০), মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্ব জোয়ার এলাকার বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ সাখা এবং নাজিম উদ্দিন রানা (৩৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার নেতৃত্বে মুরগির বিষ্ঠা লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে; আমি কেন এসব ছোট বিষয়ে নজর দেব? ব্যবসায়ী রিপন নিজ থেকে মাঝে মধ্যে আমাকে খরচের টাকা দিত।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার আরাফাত হোটেলের পাশে অভিযান চালিয়ে মজল হক ও মো. শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৬৭ হাজার ২০০ কেজি মুরগির বিষ্ঠা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার/দেবযানী
