সামনে হারিকেন পেছনে ফ্যান, এই হঠকারিতা বাদ দিন: তারেক রহমান

সামনে হারিকেন পেছনে ফ্যান, এই হঠকারিতা বাদ দিন: তারেক রহমান
সামনে হারিকেন পেছনে ফ্যান, এই হঠকারিতা বাদ দিন: তারেক রহমান


সামনে হারিকেন পেছনে ফ্যান, এই হঠকারিতা বাদ দিন: তারেক রহমান


স্টাফ রিপোর্টার: বেশ অনেকদিন ধরেই দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট চলছে। বাসা বাড়িতে যেমনি পাওয়া যাচ্ছেনা রান্নার জন্য গ্যাস, তেমনি মিলছেনা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ। এমন অবস্থার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানালেন, আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি জ্বালানি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। আগামী ১০ বছর দেশে যেনো কোনো জ্বালানি সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেই পরিকল্পনা দেবেন বলেও জানিয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে ‘দরিদ্র ও অসহায়’দের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যে বিদ্যুতের কষ্ট পাচ্ছেন, আমি আন্তরিকভাবে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এই সরকার আপনাদের সরকার এবং আমরা কাজ করছি যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে এই কষ্টের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য। আগামী যে সংসদ ২৭ তারিখে শুরু হবে, এই সংসদেই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে উপস্থাপন করব—আগামী ১০ বছর আমরা কীভাবে এই দেশের মানুষের জন্য জ্বালানি সমস্যার সমাধান করব, সেই পরিকল্পনা দেব।’

গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত সরকার (ড. ইউনুসের সরকার) তৃতীয় এলএনজি জাহাজের পারমিশন বাতিল করেছিল, যা এখন নতুন করে করতে হচ্ছে। চীনের সঙ্গে ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তৃতীয় জাহাজটি চলে এলে গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জাহাজ তৈরিতে সময় লাগে বিধায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরতে হবে।

এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে যে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিকদল বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তেমনই এক প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছে, ‘দুদিন আগে দেখলাম একটি দলের কিছু সদস্য গ্যাস-বিদ্যুৎ চেয়ে সামনে হারিকেন নিয়ে বসে আছে। অথচ তাদের পেছনে ফ্যান চলছে, তারা ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে। এই হচ্ছে তাদের হঠকারিতা।’ ওইসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বাদ দিন। আপনাদের কাছে যদি এমন কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে যা আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তবে সংসদে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করবো। আর যদি কেবল বিভ্রান্ত করার জন্য এসব বলে থাকেন, তবে জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

এসব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী যুদ্ধ করে এই রাজপথেই টিকেছিল। আজ যারা বড় বড় গলা উঁচু করে বিভ্রান্তিকর কথা বলছে, গত ১৭ বছর মানুষ আপনাদেরকে রাজপথে দেখতে পায়নি। রাস্তায় বসে ভাঙচুর করা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার দিন শেষ। জনগণ এখন সেই রাজনীতি আর সমর্থন করে না। মুরোদ থাকলে শার্টের হাতা গুটিয়ে, কোদাল হাতে মাঠে নামুন, মানুষের জন্য কাজ করুন।’

সাধারণ মানুষকে দেশের কাজে যোগ দেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে, শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। আজ আমি কী পেলাম সেটি বড় কথা নয়, আমি এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কী দিতে পারলাম সেটিই হচ্ছে বড় কথা।’

অনুষ্ঠানে চিকিৎসা খাত নিয়েও কথা বলেছেন প্রধামন্ত্রী। তিনি আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রত্যেকটিতে ১৫১ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০৩টি উপজেলার ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটিতে আমরা ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করব। যেখানে মানুষ তার প্রয়োজনমতো চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।’

ঢাকা রিপোর্টার/শিমুল
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url