মাগুরায় এক নারীর মাসিক বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!
![]() |
| মাগুরায় এক নারীর মাসিক বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা! |
মাগুরায় এক নারীর মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা!
মাগুরা রিপোর্টার: কয়েক মাস ধরেই বিদ্যুৎ ও তার বিল নিয়ে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। দেশের কোনো অঞ্চলেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু এলাকাতেতো লোডশেডিংয়ের সময় এতোটাই দীর্ঘ হয়েছে যে, সেসব এলাকার মানুষ বিদ্যুতের সংজ্ঞাই ভুলে যেতে বসেছে। ঢাকা সিটি ব্যাতিত দেশের অঞ্চলের অনেক স্থানে প্রতিদিন ১০-১৫ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের দূর্ভোগে ভুগছে সাধারণ মানুষ।
আরো বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ভুতুরে বিদ্যুৎ বিল। সারাদিনে দু এক ঘন্টা শুধু লাইট ফ্যান চালিয়ে অনেক নিম্নবিত্ত্ব পরিবারের বিদ্যুৎ বিল আসছে কয়েক হাজার টাকা। কিন্তু মাগুরা সদর উপজেলা মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে মোচ্ছা. আলেয়া খাতুনের বিদ্যুৎ বিল যেনো পুরো মাগুরা জেলার বিদ্যুৎ খরচের সমান। এই গ্রাহকের চলতি সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তাকে এমন অস্বাভাবিক বিল ধরিয়ে দিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
মোচ্ছা. আলেয়া খাতুনকে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দেওয়া বিদ্যুৎ বিলের কাগজে দেখা গেছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারে রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টে রিডিং ১৬০। অই বিলে এক মাসে বিদ্যুৎ বিলের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। সাথে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট যোগ করে চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
আবার বিদ্যুৎ বিলে লেখা রয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না কলে বিলম্ব জরিমানাসহ বিলের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল হওয়া কথা মাত্র এক হাজার ৯৬৩ টাকা। যা বিলম্ব ফিসহ দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৬ টাকা।
ভুক্তভোগী আলেয়া খাতুন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় গ্রাহকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। সাথে অধিক পরিমাণ অর্থ দণ্ড দিতে হয়। এ ধরনের ভূতুড়ে বিল হয় প্রায়ই শোনা যায়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা আরও বেশি করে সতর্ক হয়ে বিদ্যুতের মিটার রিডিং করলে এমন ভোগান্তি সৃষ্টি হবে না।’
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম এমন ভুতুড়ে বিল হয়েছে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ভুল করে মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়েছে। যার ফলে এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। তবে ওই গ্রাহকের বিলটি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংশোধন করে জমা দেয়া হয়েছে।’
ঢাকা রিপোর্টার/দেবযানী
