দিল্লির এক পুরুষের দেহে গর্ভাশয়, এলো কীভাবে?
![]() |
| দিল্লির এক পুরুষের দেহে গর্ভাশয়, এলো কীভাবে? |
দিল্লির এক পুরুষের দেহে গর্ভাশয়, এলো কীভাবে?
দিল্লি রিপোর্টার: ভারতের দিল্লির বাসিন্দা ২৬ বছরের যুবক মুকেশ (ছদ্মনাম)। বিয়ে করেছেন দু বছর হলো। স্ত্রীর সাথে নিয়মিত মেলামেশার পরেও সন্তান হচ্ছেনা তাদের। দুঃশ্চিন্তায় একের পর এক চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফলাফল মিলছে না। এরপর করিয়েছেন নিজের শারীরিক পরীক্ষা। সেসময় সামনে এলো অবাক করা বিষয়টি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেন তার শরীরের ভেতরে গর্ভাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব দুটিই উপস্থিত রয়েছে।
গর্ভাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউব কি?
গর্ভাশয় হলো নারীদের একটি অঙ্গ, যা জরায়ু নামে পরিচিত। নারীদের গর্ভাবস্থায় সন্তান জরায়ুর ভেতরেই বড় হয়। গর্ভাশয়ের প্রধান কাজ নিষেকের পর ভ্রূণকে ধারণ করা, সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত ভ্রূণকে সুরক্ষা দেয়া এবং নিজের শরীর থেকে পুষ্টি ও অক্সিজেন শিশুর শরীরে সরবরাহ করা। এছাড়া ঋতুস্রাব বা মাসিক নিয়ন্ত্রণ ও সন্তান প্রসব করতেও এই অঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
ফ্যালোপিয়ান টিউব হলো জরায়ু নালি। এটি নারী প্রজননতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা ডিম্বাশয় থেকে জরায়ু পর্যন্ত প্রসারিত থাকে। এই টিউবের মূল কাজ হলো ডিম্বাশয় থেকে নির্গত ডিম্বাণু জরায়ুতে বহন করা এবং শুক্রাণুর সাথে ডিম্বাণুর নিষিক্তকরণে সহায়তা করা। নিষিক্ত হওয়ার পর ভ্রূণটি এই টিউবের মাধ্যমেই জরায়ুতে এসে পৌঁছায়।
এবার ফিরি মুকেশের কথায়। যে ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিলেন, তিনি জানিয়েছেন, বাহ্যিকভাবে অন্য পুরুষদের মতোই শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য মুকেশের। তাছাড়া এমন কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ ছিল না যার উপর ভিত্তি করে আন্দাজ করা যেতে পারে, তার ভেতরে নারী অঙ্গ ‘গর্ভাশয় এবং ফ্যালোপিয়ান টিউব’ রয়েছে।
মুকেশ যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সেখানকার চিফ ইউরোলজিস্ট ডা. সুশীল খারবান্দার বলেন, ‘বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষার সময়ই মুকেশের শরীরে জরায়ু এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের উপস্থিতি দেখা যায়। এমন অবস্থা খুবই বিরল। একে ‘পারসিসেন্ট মুলেরিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম’ (পিএমডিএস) বলা হয়। এই অবস্থা জন্মগত। গোটা বিশ্বে এখনো পর্যন্ত ৩০০-রও কম পিএমডিএস- এর কেস নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকেরাও হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মুকেশের শরীরের ভেতরের এই জটিল গঠনটি নিয়ে আরও গভীরভাবে গবেষণা শুরু করেন তারা। মানবদেহের হরমোন এবং প্রজননতন্ত্রের এমন অস্বাভাবিক আচরণ কেন ঘটে, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষা করা হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জিনগত ত্রুটি কিংবা ভ্রূণের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে হরমোনের অস্বাভাবিকতার কারণে এই ধরনের বিরল শারীরিক অবস্থা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে মুকেশের স্বাস্থ্যগত সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ঢাকা রিপোর্টার/দেবযানী
